কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬ এ ১০:২৯ PM
কন্টেন্ট: পাতা
যমুনা অয়েল পিএলসি.-এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
যমুনা অয়েল পিএলসি. (জেওপিএলসি.) বাংলাদেশের জ্বালানি তেল বিপণন খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কোম্পানিটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিরবচ্ছিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহ এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও অধিক সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি দক্ষতা, সুনাম ও আস্থার সাথে গ্রাহকসেবা প্রদান করে চলেছে।
১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানে ২ (দুই) কোটি টাকা মূলধন নিয়ে পাকিস্তানের প্রথম জাতীয় তেল কোম্পানি হিসেবে “পাকিস্তান ন্যাশনাল অয়েল লিমিটেড (পিএনওএল)” প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশ অ্যাবানড্যান্ড প্রোপার্টি (কন্ট্রোল, ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ডিসপোজাল) আদেশ, ১৯৭২ (পিও নং-১৬, ১৯৭২) অনুযায়ী কোম্পানিটিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অধিগ্রহণ করে এবং এর নাম পরিবর্তন করে “বাংলাদেশ ন্যাশনাল অয়েল লিমিটেড” রাখা হয়। পরবর্তীতে ১৩ জানুয়ারি ১৯৭৩ তারিখে সরকারি আদেশের মাধ্যমে কোম্পানিটির নামকরণ করা হয় “যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড (জেওসিএল)”।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২১-০৪-১৯৭৩ তারিখের ২১ এম-৪/৭৬ (এনআর) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কোম্পানিটি পেট্রোবাংলার আওতাধীন অয়েল কোম্পানিজ অ্যাডভাইজারি কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে ১২ মার্চ ১৯৭৫ সালে কোম্পানি আইন, ১৯১৩ (সংশোধিত ১৯৯৪) এর অধীনে এটি সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে নিবন্ধিত হয়। সে সময় কোম্পানির অনুমোদিত মূলধন ছিল ১০ (দশ) কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ছিল ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা।
পরবর্তীকালে ১৯৭৬ সালের বিপিসি অধ্যাদেশ নং LXXXVIII (যা ১৩ নভেম্বর ১৯৭৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেট এক্সট্রা-অর্ডিনারীতে প্রকাশিত হয়) এর ৩১(সি) ধারায় বর্ণিত তালিকা অনুযায়ী কোম্পানির সকল সম্পত্তি ও দায়-দেনা সরকার কর্তৃক বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর নিকট হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি বিপিসির একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান (Subsidiary Company) হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এছাড়া ১ জানুয়ারি ১৯৮৬ তারিখে ইন্দোবার্মা পেট্রোলিয়াম কোম্পানি লিমিটেড (আইবিপিসিএল)-এর সকল সম্পদ, দায়-দেনা ও কার্যক্রম যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড কর্তৃক গ্রহণ করা হয়।
২০০৫-২০০৬ অর্থবছরের মুনাফা হতে ৫.০০ কোটি টাকার বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১০.০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। পরবর্তীতে ২৫ জুন ২০০৭ তারিখে কোম্পানিটিকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হতে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয় এবং অনুমোদিত মূলধন বৃদ্ধি করে ৩০০.০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। একই বছরের ১০ আগস্ট আরও ৩৫.০০ কোটি টাকার বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৪৫.০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন তাদের মালিকানাধীন প্রতিটি ১০.০০ টাকা মূল্যমানের ১,৩৫,০০,০০০টি সাধারণ শেয়ার, অর্থাৎ ১৩.৫০ কোটি টাকার শেয়ার ডাইরেক্ট লিস্টিং পদ্ধতির আওতায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডে ০৯ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে তালিকাভুক্ত করে এবং পরবর্তীতে উক্ত শেয়ার পুঁজিবাজারে অফলোড করা হয়। পরবর্তীতে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অবশিষ্ট শেয়ার হতে আরও ১৭ শতাংশ শেয়ার ২৫ জুলাই ২০১১ তারিখে অফলোড করা হয়।
বিভিন্ন অর্থবছরে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভার অনুমোদনক্রমে বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১১০.৪২ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়, যা ১০ টাকা মূল্যমানের ১১,০৪,২৪,৬০০টি শেয়ারে বিভক্ত। বর্তমানে কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মালিকানা ৬০.০৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৩৯.৯২ শতাংশ।
কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৮ নং আইন) এর ধারা ১১(৭) অনুযায়ী রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস এর অনুমোদনক্রমে ০২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ হতে কোম্পানির নাম “যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড (জেওসিএল)” হতে পরিবর্তিত হয়ে “যমুনা অয়েল পিএলসি. (জেওপিএলসি.)” করা হয়।
জেওপিএলসি. বিশ্বমানের “মবিল” ব্র্যান্ডের লুব্রিক্যান্ট ও গ্রীজ বিপণনের পাশাপাশি নিজস্ব “যমুনা” ব্র্যান্ডের লুব অয়েলও বাজারজাত করে থাকে। কোম্পানির প্রধান কার্যালয় চট্টগ্রামে অবস্থিত। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ৪টি বিভাগীয় অফিস এবং ৫টি আঞ্চলিক বিক্রয় অফিস রয়েছে।
চট্টগ্রামে অবস্থিত প্রধান স্থাপনা সহ সারা দেশে কোম্পানির ১৮টি ডিপো রয়েছে। এছাড়া ৭৫৯টি ফিলিং ষ্টেশন ডিলার, ৭৩৩টি ডিস্ট্রিবিউটর, ২৯০টি প্যাকড পয়েন্ট ডিলার, ৭৪০টি এলপিজি ডিলার, ৬টি বাঙ্কার ডিলার এবং ২২টি মেরিন ডিলারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী বিপণন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নিরবচ্ছিন্নভাবে গ্রাহকদের নিকট পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য ও সেবা পৌঁছে দিচ্ছে।
বর্তমানে কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৮ (আট) সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিচালনা পর্ষদ রয়েছে। পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে কোম্পানির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং এ ক্ষেত্রে সরকার নীতিনির্ধারক হিসেবে কাজ করে, যা বিপিসির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়।